ভূমিকা:
মার্কেন্টাইলিজম হল ষোড়শ থেকে অষ্টাদশ শতাব্দী পর্যন্ত ইউরোপে প্রচলিত একটি অর্থনৈতিক মতবাদ। এই সময়ে ইউরোপের শক্তিশালী দেশগুলো এই মতবাদ অনুসারে তাদের অর্থনীতি পরিচালনা করত। মার্কেন্টাইলিজমের মূল লক্ষ্য ছিল একটি দেশকে অন্য দেশের তুলনায় সমৃদ্ধশালী করা এবং তার শক্তি বাড়ানো।
মার্কেন্টাইলিজমের মূল ধারণা:
* স্বর্ণ ও রূপা: মার্কেন্টাইলিজম মতে, একটি দেশের সম্পদ তার কাছে থাকা স্বর্ণ ও রূপার পরিমাণের উপর নির্ভর করে। তাই দেশকে সর্বদা স্বর্ণ ও রূপা জমাতে হবে।
* রপ্তানি বৃদ্ধি: দেশকে যত বেশি পণ্য বিদেশে বিক্রি করবে তত বেশি স্বর্ণ ও রূপা পাবে। তাই রপ্তানি বাড়ানোর জন্য সরকার বিভিন্ন উৎসাহ দেয়।
* আমদানি হ্রাস: অন্যদিকে দেশকে কম পণ্য বিদেশ থেকে কিনতে হবে। কারণ আমদানির ফলে স্বর্ণ ও রূপা বিদেশে চলে যায়।
* উপনিবেশ: নতুন দেশ জয় করে উপনিবেশ স্থাপন করে কাঁচামাল সংগ্রহ করা এবং নতুন বাজার তৈরি করা মার্কেন্টাইলিজমের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল।
মার্কেন্টাইলিজমের বৈশিষ্ট্য:
* রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ: রাষ্ট্র এই অর্থনীতি ব্যবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করত। রাষ্ট্র বিভিন্ন নীতি নির্ধারণ করে, শুল্ক আরোপ করে এবং বানিজ্যকে নিয়ন্ত্রণ করত।
* শিল্প উন্নয়ন: দেশীয় শিল্পের উন্নয়নে জোর দেওয়া হত।
* বৈদেশিক বানিজ্য: বৈদেশিক বানিজ্যকে শূন্য-সম পরিমাণে দেখা হত। অর্থাৎ, একটি দেশ যত বেশি রপ্তানি করবে এবং কম আমদানি করবে, তত বেশি লাভবান হবে।
মার্কেন্টাইলিজমের সমালোচনা:
* শূন্য-সম পরিমাণে বানিজ্যের ধারণা: এই ধারণা অর্থনৈতিকভাবে অসমর্থনযোগ্য।
* মুক্ত বাজারের বিরোধিতা: মার্কেন্টাইলিজম মুক্ত বাজারের বিরোধী ছিল।
* স্বার্থপরতা: এই মতবাদ একটি দেশের স্বার্থকেই প্রাধান্য দেয়।
উপসংহার:
মার্কেন্টাইলিজম ষোড়শ থেকে অষ্টাদশ শতাব্দী পর্যন্ত ইউরোপের অর্থনীতিতে একটি প্রভাবশালী মতবাদ ছিল। যদিও এই মতবাদের অনেক সমালোচনা করা হয়, তবুও এটি ইউরোপীয় দেশগুলোর শক্তিশালী হওয়ার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল।
আধুনিক অর্থনীতিবিদরা মার্কেন্টাইলিজমকে একটি পুরাতন এবং অপ্রাসঙ্গিক মতবাদ হিসেবে দেখেন। তবে, এই মতবাদ থেকে আমরা অনেক কিছু শিখতে পারি।